তেহরানে মঙ্গলবার রাতে আজারবাইজানের উপপ্রধানমন্ত্রী শাহিন মোস্তাফার সঙ্গে এক বৈঠকে রেজায়ি এসব কথা বলেন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। রেজায়ি বলেন, ওই হামলার জবাবে ইরান শক্তভাবে আত্মরক্ষা করেছে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের শর্তগুলো জানানো হয়েছে। তবে তাঁর দাবি, ট্রাম্প এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, সামরিক অচলাবস্থার মুখে যুক্তরাষ্ট্র ‘আকাশ অবরোধের’ পথ বেছে নিয়েছে।
আঞ্চলিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে রেজায়ি বলেন, ইতিহাসে বহু বিদেশি শক্তি এ অঞ্চলে এসেছে এবং চলে গেছে; কিন্তু ইরান ও এ অঞ্চলের দেশগুলো এখনো টিকে আছে।
বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে জ্বালানি ও খনিজ খাতে সহযোগিতা, আরাস করিডোর প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ককেশাস অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করতে ইরানের প্রস্তুতির কথাও জানান রেজায়ি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ অঞ্চলে কোনো ভবিষ্যৎ নেই এবং ইরান শক্ত অবস্থান নিয়ে এর মোকাবিলা করছে।
বৈঠকে আজারবাইজানের উপপ্রধানমন্ত্রী শাহিন মোস্তাফা ইরান ও আজারবাইজানের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি ৪০ দিনের যুদ্ধের সময় যুদ্ধের অবসান ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের অবস্থানকে দুই দেশের উষ্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।
শাহিন মোস্তাফা ইরানকে আজারবাইজানের ‘বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতিম’ দেশ হিসেবে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে আজারবাইজানের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের বিষয়ে প্রচলিত জল্পনা-কল্পনা নাকচ করে দেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আগে সম্মত অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল আরাস করিডোর, পানি ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং পণ্য ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ।
এ ছাড়া আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যকার শান্তি প্রক্রিয়ায় ইরানের ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান আজারবাইজানের উপপ্রধানমন্ত্রী।
আপনার কমেন্ট